আগুনে পোড়া রোগীর প্রাথমিক সেবা। www.bahumukhi.com

আগুনে পোড়া রোগীর প্রাথমিক সেবা

পুড়ে গেলে যে কাজগুলো করবেন না

Bangla Health Tips, আগুনে পোড়া রোগীর প্রাথমিক সেবা
Bangla Health Tips, আগুনে পোড়া রোগীর প্রাথমিক সেবা

আমাদের দেশে প্রতিদিন নানা অগ্নি দুর্ঘটনা ঘটছে। এসব আগুনে পোড়া রোগীর প্রাথমিক সেবা বা চিকিত্সার ক্ষেত্রে কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। আগুনে পোড়া রোগীর অবস্থা সাধারণ বা মারাত্মক যাই হোক না কেন, ঐ মুহূর্তে পোড়া রোগীকে সঠিক সেবা দিতে হয়। তখন কি কি প্রাথমিক সেবা দিতে হবে অথবা কি কি করা যাবে না এই বিষয়গুলো জেনে রাখা খুবই জরুরি। আমাদের দেশে সাধারণত তিনটি উপায়ে আগুন লেগে অগ্নি দুর্ঘটনা ঘটে। যেমন:

 

1.    থার্মাল বার্ন বা বাড়ি ঘরে আগুন লেগে, গরম পানি বা গরম তেলে পুড়ে যাওয়া,

2.    কেমিক্যাল বার্ন বা এসিডের কারণে পুড়ে যাওয়া এবং

3.    ইলেক্ট্রিক্যাল বার্ন বা বৈদ্যুতিক কোনো কারণে পুড়ে যাওয়া।

 

আবার আগুনে পোড়া রোগীকে পোড়ার মাত্রার উপর ভিত্তি করে তিন ভাগে বা ডিগ্রীতে করা হয়। যেমন:

1.    ১ম ডিগ্রী বা হালকা পোড়া তাপ লেগে চামড়া লাল হয়ে যওয়া কিন্তু কোনও ফোস্কা পড়ে না।

2.    ২য় ডিগ্রী বা চামড়া পুড়ে ফোস্কা পড়ে যাওয়া

3.    ৩য় ডিগ্রী বা চামড়া পুড়ে মাংস পর্যন্ত পুড়ে যাওয়া।

 

তবে কিছুটা সচেতনতার মাধ্যমে আপনি নিজেকে এবং ভুক্তভোগীকে অনেক বড় বিপদ থেকে রক্ষা করতে পারেন। জেনে নিন আগুনে পোড়া রোগীর প্রাথমিক সেবা বা চিকিত্সার ক্ষেত্রে কি কি করবেন।

 

কি কি প্রাথমিক সেবা দিবেন:

·         ১ম ডিগ্রী পোড়ার ক্ষেত্রে, পোড়া স্থানে শুধুমাত্র পানি ঢাললেই হয়, আর কোনও চিকিৎসার দরকার হয় না। পানি ঢালতে হবে অন্ততপক্ষে ১৫ থেকে ২০ মিনিট।

·         ২য় ডিগ্রী পোড়ার ক্ষেত্রে, পোড়া স্থানে লম্বা সময় ধরে পানি ঢালতে হবে, ১-২ ঘণ্টা পর্যন্ত হতে পারে। এক্ষেত্রে ফোস্কা গলানো যাবে না। প্রাথমিক চিকিৎসার পর  রোগীকে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে নেওয়া উচিত।

·         ৩য় ডিগ্রী পোড়ার ক্ষেত্রে রোগীকে যত দ্রুত সম্ভব হাসপাতালে নিতে হবে। হাসপাতালে নেওয়ার পূর্ব পর্যন্ত পোড়া স্থানে পানি ঢালতে হবে।

 

থার্মাল বার্ন হলে করণীয়:

·         রোগীকে সরিয়ে নিরাপদ জায়গায় নিতে হবে। দৌড়ানো বা গড়াগড়ি দেওয়া যাবে না। বেশি পোড়া অংশ ওপরের দিকে দিয়ে মাটিতে শুতে হবে।

·         আগুনের উৎস থেকে রোগীকে নিরাপদে সরানোর পর শরীরের সব কাপড়-চোপড়, জুতা, মোজা, বেল্ট, অলঙ্কার ইত্যাদি সতর্কতার সহিত খুলে ফেলতে হবে

·         যদি ধোঁয়া বেশি থাকে তবে যথাসম্ভব নিচু হয়ে থাকতে হবে, এতে শ্বাস নেওয়া সহজ হবে। কারণ ধোঁয়া, গরম বাতাস সবসময় ঊর্ধ্বমুখী হয়।

·         শরীরের পোড়া অংশে প্রচুর পানি ঢালতে হবে

·         দ্রুত রোগীকে হাসপাতালে নিতে হবে।

 

কেমিক্যাল বার্ন হলে করণীয়:

·         কেমিক্যাল বার্নের ফলে নিজের নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রেখে,  প্রয়োজনে গ্লাভস, মাস্ক ও চোখের প্রোটেকশন নিয়ে রোগীর জামা, কাপড়, অলঙ্কার খুলে রাখতে হবে। পানি দিয়ে আক্রান্ত জায়গা প্রশমিত করতে হবে এবং আক্রান্ত স্থানে দীর্ঘ সময় পনি ডালতে হবে।


Read More Bangla Health Tips:


ইলেক্ট্রিক্যাল বার্ন হলে করণীয়:

·         বিদ্যুৎ সংযোগত বন্ধ করে দিতে হব।

·         এ ক্ষেত্রে মাংস, নার্ভ, রক্তনালি ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয় তাই রোতগীর নড়াচড়া, পালস, শ্বাস-প্রশ্বাসের গতি পরীক্ষা করুন। হার্ট বন্ধ হয়ে গেলে বুকের মাঝখানে চাপ দিতে হবে।

 

পুড়ে গেলে যে কাজগুলো করবেন না:

·         লোশন, পেষ্ট জাতীয় বা তৈলাক্ত জিনিস লাগানো যাবে না।

·         ফোসকা ফুটো করা বা গলানো যাবে না।

·         সরাসরি বরফ বা বরফ সমান টন্ডা পানি লাগানো যাবে না।

·         পোড়া জায়গার সাথে সম্পূর্ন লেগে আছে এমন কাপড় আলাদা করা যাবে না।

·         পোড়া স্থান পানি ঢালা ছাড়া অন্য কোন ভাবে পরিষ্কার করা যাবে না।

·         টুথপেস্ট, লবণ, ডিমের সাদা অংশ দেয়া যাবে না

Previous Post Next Post